ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে। এবং সহিংসতা পরিহারের বিষয়ে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক আন্দোলনে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হতাহতের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে দুঃখিত বলেও জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন। তিনি পশ্চিমের যে কোনো দেশে আশ্রয় নিতে চেষ্টা করছেন। চরম মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে কী আপনারা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেবেন? জবাবে মিলার বলেন, এ ধরনের কোনো অনুরোধ আমাদের কাছে আসেনি।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনে যেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়, এমনটাই প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিফিংয়ে ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক প্রাণ ঝরেছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে শান্তি ও সংযমের আহ্বান জানাচ্ছি।

ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, এটি যদি সত্য হয় যে, সেনাবাহিনী আইনানুগ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের আহ্বানকে প্রতিহত করেছে, তবে তা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

মিলার বলেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যে কোনো পরিবর্তন পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন মুখপাত্র বলেন, আমরা চাই, বাংলাদেশের জনগণই ভবিষ্যৎ সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক।

মিলার বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে দুঃখিত। এসব মৃত্যুর জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যাবশ্যক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির বিপরীতে সোমবার সারা দেশে কারফিউ জারি করে সরকার। কিন্তু ছাত্র-জনতা কারফিউ ভঙ্গ করে রাস্তায় নেমে আসে। তখন সেনাবাহিনীর নেওয়া ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।